মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ফ্রিল্যান্সিং।

'''মুক্তপেশা''' (Freelancing), কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেমু্ক্তভাবে কাজ করাকে বোঝায়। যারা এধরণের কাজ করেন তাদের বলা হয় "মুক্তপেশাজীবী" (Freelancer)। এধরণের কাজে  কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বেতনভাতানেই তবে স্বাধীনতা আছে, ইচ্ছা মতো ইনকামের সুযোগ ও আছে, । এজন্য  স্বাধীনমনা লোকদের আয়ের জন্য এটা একটা সুবিধাজনক পন্থা। আধুনিক যুগেবেশিরভাগ মুক্তপেশার কাজগুলো [ইন্টারনেট|ইন্টারনেটের] মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েথাকে। ফলে মুক্ত পেশাজীবীরা ঘরে বসেই তাদের কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। এপেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন, তবে তাআপেক্ষিক। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে এ পেশার মাধ্যমে দেশি-বিদেশিহাজারো ক্লায়েন্টের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে।  

 

==কাজের ধরণ==

মুক্তপেশারকাজের পরিধি অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী এধরণের কর্মপদ্ধতির চাহিদা ক্রমশবাড়ছে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা কয়েকটি কাজের মধ্যেউল্লেখযোগ্য হলো:

*লেখালেখি ও অনুবাদ: নিবন্ধ , ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ছোট গল্প, প্রাপ্তবয়স্কদের গল্প এবং এক ভাষা থেকে অন্যভাষায় ভাষান্তরকরণ উল্লেখযোগ্য।

*সাংবাদিকতা: যারা এবিষয়ে দক্ষতারা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখির, চিত্রগ্রহণের পাশাপাশিইন্টারনেটভিত্তিক জনসংযোগ করে থাকেন।

*গ্রাফিক্স ডিজাইন: লোগো, ওয়েবসাইট ব্যানার, ছবি সম্পাদনা, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।

*ওয়েব ডেভলপমেন্ট: ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েবভিত্তিক সফ্‌টওয়্যার তৈরি, হোস্টিং ইত্যাদি।

*কম্পিউটার প্রোগ্রামিং: ডেস্কটপ প্রোগ্রামিং থেকে ওয়েব প্রোগ্রামিং সবই এর আওতায় পড়ে।

*ইন্টারনেট বিপণন/ইন্টারনেট মার্কেটিং: ইন্টারনেটভিত্তিক বাজারজাতকরণ কার্যক্রম, যেমন ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বিপণন।

*গ্রাহকসেবা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহককে টেলিফোন, ইমেইল ও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমের সাহাজ্যে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

*প্রশাসনিক সহায়তা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন কাজের ডাটা এন্ট্রি করণ, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি।

 

ইন্টারনেটভিত্তিকমুক্তপেশার চর্চায় বিশ্বব্যপী বিভিন্ন ওয়েবসাইট তাদের সেবা বিস্তৃতকরেছে, এবং এসব মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের (মিডিয়া) মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেবিশ্বব্যাপী ক্রেতা এবং ভোক্তা উভয়েই। এসব ওয়েবসাইটে যে-কেউ অ্যাকাউন্টখুলে নিজেদের কাজের বিবরণ জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন, এবং অপরপক্ষেযে-কেউ অ্যাকাউন্ট খুলে বিজ্ঞাপিত কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করলে আবেদন করেন।এদের উভয়ের মধ্যে লেনদেনকৃত পরিমাণ অর্থের একটা অনুপাত এসকল মধ্যস্থব্যবসায়ী ওয়েবসাইটগুলো গ্রহণ করে, এবং এটাই তাদের মুনাফা। অনলাইনভিত্তিকএরকম কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের মধ্যে উল্লেখযোগ্যoDesk.com, Elance.com, Freelancer.com ইত্যাদি। তবে $Dolancer-সহআরো বেশ কিছু ওয়েবসাইট এই পদ্ধতি অনুসরণ করে এমএলএম ব্যবসার আদলে নিজেদেরকার্যক্রম সাঁজায় এবং পরবর্তিতে অনেকে এর ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হোনবলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

 

নতুনরা কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসতে পারে।

 

 

ফ্রিলান্সিং ইংরেজি শব্দ যার বাংলা প্রতিশব্দ মুক্ত-পেশা। আরো সহজভাবেবলা যায়, একজন ফ্রিলান্সার হচ্ছে আত্ম-কর্মশীল যে কোন নির্দিষ্ট কর্মদাতারঅধীনে দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ করে না। এরা সল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন কম্পানি, এজেন্সিতে নিজেদের নিযুক্ত করে শ্রম দেয়। ফুল টাইম অথবা পার্ট যেকোনো ভাবেইসে পেশটাকে নিতে পারে। আর প্রজেক্ট ও ঘণ্টা এই দুইভাবে কাজ করে এরা।যেকোনো জায়গাতে বসেই এরা কাজ করতে পারে। হউক সেটা নিজের ঘর অথবা পার্কেরমাঠ। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গৃহিণী সহ যেকোনো কাজের পাশাপাশি যে কেউফ্রিলান্স পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। অথবা যারা পড়াশুনা শেষ করেচাকুরির জন্য চেষ্টা করছেন এরাও এই পেশাটাকে বেছে নিতে পারেন। নতুন বলতেশুধুমাত্র নতুন প্রজন্মকে বলা হচ্ছে না, হতে পারে সে ৪৫ বছরের একজন সরকারিচাকুরীজীবী অথবা ২৫ বছরের গৃহিণী।

নতুনদের কেন ফ্রিলান্স পেশায় আসা উচিত?

আন্তর্জাতিকবাজারের চাহিদা, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা হতে পারে অন্যতম কারণ যারজন্য নতুনদের এই পেশায় আসা উচিত। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, দিন দিন আমাদেরদেশে বেকারত্বের প্রভাব বেড়েই চলেছে। শিক্ষিত জনশক্তি গোষ্ঠী বাড়ছেপ্রতিবছরই কিন্তু কর্ম-সংস্থান বাড়ছে না তুলনামুলক ভাবে। তাই অধিকাংশশিক্ষিত মানুষগুলোকে বয়ে বেড়াতে হয় বেকারত্বের অভিশাপ। যেখানে গতানুগতিকচাকুরির বাজার সঙ্কীর্ণ সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে ফ্রিলান্সিং পেশা হতে পারেদেশের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার অন্যতম চালিকাশক্তি। আবার যারা ইতোমধ্যে বিভিন্নপেশায় নিয়োজিত আছেন তারাও দিনের কিছুটা সময় কাজ করে আয়ের আরেকটি মাধ্যমহিসেবে ফ্রিলান্সিং পেশাকে বেছে নিতে পারেন।

নতুনরা যেভাবে ফ্রিলাসিং এ আসতে পারেঃ

গতকয়েক বছরে ফ্রিলান্সিং আমরা যে হারে এগিয়েছি তাতে বলার অপেক্ষা রাখেনা যেএই পেশার ভবিষ্যৎ আশাব্যঞ্জক। আর এর ভবিষ্যৎ বুঝতে পেরেই বর্তমান সরকারঅনলাইনে ফ্রিলান্সিং পেশায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতেনিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, MoICT উদ্যোগে এন্ড্রোয়েড এপস ডেভেলপমেন্টপ্রশিক্ষণ। যেখানে কিভাবে এন্ডোয়েড মোবাইলের এপস বানানো যায় তা শেখানো হয়।এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ, প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও স্বনির্ভর বাংলাদেশেরউদ্যোগে লার্নিং এন্ড আরনিং প্রশিক্ষণ। এখানে বহুবিধ কাজ শেখানো হয়। যেমন, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন, এসইও সহ আরো বিভিন্ন রকমের কাজ যা করে যে কেউফ্রিলান্স করতে পারবে। যেখানে বিভিন্ন মেয়াদে সারাদেশে বিভিন্ন সময়েবিনামূল্যে ট্রেনিং এবং সরাসরি অনলাইনে কাজ করে কিভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়করা যায় সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দিচ্ছে। তাই নতুনরা প্রাথমিকভাবে এরমাধ্যমে কাজ শিখতে পারে।

 

কাজ শেখা ও কাজ করাঃ

নতুনদেরমাঝে প্রায়ই একটা প্রশ্ন কাজ করে আর সেটা হল কি কাজ শিখবো আর কিভাবে কাজকরবো? তাদের উচিত হবে প্রথমে জেনে নেয়া যে কি কি কাজ করে অনলাইনেফ্রিলান্সিং করা যায়! এবং কিভাবে দক্ষ ও কর্মঠ হওয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবতেহবে। একটি সুন্দর উদাহরণ দেই, আপনি যদি শুধুমাত্র ওয়েব ডেভেলপার হয়েফ্রিলান্স করতে চান তাহলে খুব সহজেই কাজ শিখতে পারবেন। আপনি নিশ্চয়ই আর.আরফাউন্ডেশনের নাম শুনেছেন, এখান থেকে যেকেউ বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে আপনিকাজ শিখতে পারেন। আর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্যhttp://rrfoundation.netসাইটেভিজিট করতে পারেন। আবার শঙ্কায় থাকে কিভাবে টাকা হাতে পাবে, কোন ব্যাংকথেকে টাকা পাবে, কাজ শিখতে কত মাস লাগবে, প্রতিমাসে কত টাকা আয় হবে ইত্যাদিইত্যাদি। আপনি যদি ভালভাবে কাজ শিখতে পারেন তাহলে আস্তে আস্তে জানতেপারবেন কিভাবে কাজ পাবেন আর কিভাবে টাকা হতে পাবেন। তাই আপনার প্রথম কাজহবে যেকোনো একটা বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে তোলা। আর সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়েনতুনরা অনলাইনের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে কাজ করতে পারবে। তবেসাবধান, কারণ বেশিরভাগ মানুষই অল্প কিছু শিখেই মার্কেটপ্লেসে নেমে পরেকাজের উদ্দেশ্যে। তাই অনেক সময়ই দেখা যায় এরা ক্লাইন্ট এর সব কাজ করে দিতেপারে না।

শেষ কথা, নতুনদের জন্য সুখবর এই যে, অনলাইন মার্কেটে এখনোদক্ষ ফ্রিলান্সারের অনেক অভাব। তাই নতুনদের জন্য পরামর্শ একটাই, ভাল করেকাজ শিখুন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ শিখুন আর আন্তর্জাতিক বাজারেপ্রতিনিধিত্ব করুন নিজের দেশের। অর্জন করুন অসংখ্য বৈদেশিক মুদ্রা।